রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৭

নতুন ৬ ভাষায় অনূদিত হলো পবিত্র কুরআন শরীফ

পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে মুসলিম উম্মাহ পবিত্র হজ, ওমরা পালনে মসজিদুল হারামাইন ওয়াশ শরিফাইন তথা পবিত্র বাইতুল্লাহ এবং মদিনা মুনাওয়ারা জিয়ারতে যায়। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কথা চিন্তা করেই সৌদি কর্তৃপক্ষ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় পবিত্র কুরআনুল কারিম অনুবাদ করেছেন। এ বছর ৬ ভাষায় অনুবাদ করা হলো পবিত্র কুরআনুল কারিম।
এর আগের ৫৫টি ভাষার পবিত্র কুরআনুল কারিম অনুবাদ করা হয়। এ বছর নতুন যোগ হলো আরও ৬ ভাষায় অনূদিত কুরআন।
এবার যে সব ভাষায় কুরআনের অনুবাদ হয়েছে; তা হলো-
১. পুশতু (আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরানের প্রচলিত ভাষা);
২. তাজিক (তাজিকিস্তানের মূল ভাষা);
৩.ফুলানি (পশ্চিম আফ্রিকা ও মধ্য আফ্রিকার প্রায় ২০ দেশের প্রচলিত ভাষা);
৪. দ্যারি (আফগানিস্তানের ভাষা);
৫. ডাগবানি (ঘানার ভাষা) এবং
৬. নেপালি ভাষায় অনূদিত পবিত্র কুরআনের কপি মক্কা-মদিনার মসজিদের কুরআন রাখার তাকগুলোতে রাখা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানান ভাষার মানুষ প্রতিদিনই সৌদি আরবের মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববি জিয়ারতে আসেন। আগত মুসলিমরা যেন হজ-ওমরা ও জিয়ারতের সময় অর্থসহ কুরআন অধ্যয়ন ও তাফসির পড়তে পারে, সে জন্যই এ ব্যবস্থা।
বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত কুরআন সম্পর্কে মসজিদে নববির তত্বাবধায়ক কমিটির প্রধান শেখ আবদুল্লাহ বিন সালিম আওফি বলেন, ‘মুসলিম জাহানের প্রধান দুই মসজিদ তথা মসজিদে নববি ও মসজিদুল হারামে আগত হজ-ওমরা ও জিয়ারতকারীদের সুবিধার্থেই পৃথিবীর প্রায় সব ভাষায় কুরআনের অনুবাদ করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সূত্র : ইন্টারনেট

বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৭

সভ্যতা-সংস্কৃতি ধর্ম থেকে আলাদা নয়


সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ:

আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি ও তোমাদের ওপর আমার দান-অনুকম্পা পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছি এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে ধর্ম হিসেবে সন্তুষ্ট হয়েছি।’ (সূরা মায়েদা : ৩)।
কোনো ধর্মকে যখন সভ্যতা-সংস্কৃতি থেকে আলাদা করে ফেলা হয়, তখন সে ধর্ম সভ্যতা-সংস্কৃতি বিচ্ছিন্ন ও সামাজিক যোগসূত্রবিহীন ধর্মে রূপান্তরিত হয়। বরং বলা যায়, এমন ধর্মে পরিণত হয়, যে ধর্মে জীবনের প্রাণোচ্ছলতা ও সজীবতার উচ্ছ্বাস নেই।
চিরন্তন ও শাশ্বত ধর্ম হলো, যে ধর্ম প্রভূত তাৎপর্য-মাহাত্ম্য, চারিত্রিক সুষমা ও ব্যবহারিক মাধূর্যতা, নান্দনিক আচার-আচরণ এবং অনুপম সভ্যতা-সংস্কৃতি ও সুস্থ রাজনীতির সুবিস্তীর্ণ দিগন্তে সদা উচ্চকিত। সত্য ও চিরস্থায়ী এবং শাশ্বত ধর্ম মানুষকে সঠিক আকিদা ও বিশ্বাসের ছাঁচে ঢেলে সাজিয়ে-গুছিয়ে অপূর্ব-সুন্দর একটি রূপ বা অবয়ব দেয়।
সত্যের আলো নিয়ে আত্মপ্রকাশের পর ইসলাম মানবতাকে পূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ, আলোধারায় প্লাবিত ও অপার্থিব জ্যোতিস্নাত ও প্রজ্ঞাসমৃদ্ধ, ন্যায়নিষ্ঠাপূর্ণ সতত একটি সভ্যতা উপহার দিয়েছে। যে সভ্যতা মহাপরাক্রমশালী একক আল্লাহর ওপর আকিদা-বিশ্বাস স্থাপন, তাঁর স্মরণ-আলোচনা, তাঁর অলৌকিক শক্তির প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং আখেরাতই চির সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির আধার- এ বিশ্বাস লালন করার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
অনুরূপভাবে ইসলাম সামাজিক ন্যায়নিষ্ঠা, সাম্য, মানুষের প্রতি অকুণ্ঠ দয়ার্দ্রতা ও সহমর্মিতা, সেই সাথে যৌথভাবে একই সময়ে অধিকার ও আবশ্যকীয় কর্তব্য পালন এবং দান-দক্ষিণা ও বদান্যতায় সচেষ্ট, পারস্পরিক উপহারের আদান-প্রদান, কারো থেকে উপকার গ্রহণ ও অপরকে উপকৃতকরণ এবং যেকোনো সময় ও যেকোনো অবস্থায় মানুষকে সৃষ্টির সেরা এবং অত্যন্ত মর্যাদাশীল হিসেবে মান্যকরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি মানবিক শোভামণ্ডিত সভ্যতা উপহার দিয়েছে।
সত্যের আকিদা-বিশ্বাস ও আল্লাহ-প্রদত্ত শিক্ষাদীক্ষা, কুরআনের বিধি-নিষেধ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উজ্জ্বল জীবনালেখ্য এবং সাহাবাদের দ্যুতিময় জীবন-অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করেই ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে মানবেতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর-বাঙময় এবং সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বোত্তম সভ্যতা-সংস্কৃতিতে।
হেজাজের ভূমিতে ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতির সর্বপ্রথম বিকাশ ঘটে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শহর ও হিজরতের স্থান মদিনা মুনাওয়ারায়। তারপর ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি বিকাশের অভিযাত্রা ক্রমান্বয়ে মদিনার সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য নগর-প্রান্তরে ও দিক-দিগন্তে চলতে থাকে। পৃথিবীর যে দেশেই ইসলামি সভ্যতা ও কৃষ্টির আগমন ঘটেছে, সে দেশের জনগণ ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতিকে গ্রহণ ও আপন করে নিয়েছে। দিগি¦জয়ী মুসলিম বীর-শার্দুলেরা যে অঞ্চল ও সমাজ জয় করেছেন, সে অঞ্চল ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতির পবিত্র ও নির্মল বায়ু সঞ্চারিত হয়েছে।
স্মর্তব্য, যে দেশ বা জাতিকে তরবারির জোরে আনুগত্যে আনা হয়, সে জাতি ও দেশের জনগণের চোখে বিজয়ীরা চিরকাল অপরাধী ও ঘৃণ্য হয়ে থাকে। এটি পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বজনস্বীকৃত একটি স্পষ্ট বিষয়। কিন্তু ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি যে দেশেই আগমন করেছে, সে দেশের জনগণ ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতিকে চরম আগ্রহ ও পরম ভালোবাসা দিয়ে এবং প্রসন্নচিত্তে আপন ও প্রিয় করে নিয়েছে। কারণ, ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ ও বাস্তবতার সাথে অনুপম সামাঞ্জস্যপূর্ণ একটি চমৎকার ঐশী ব্যবস্থাপনা।
তদ্রƒপ ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি হলো, পারস্পরিক সহযোগিতা-সহমর্মিতা ও ¯েœহ-ভালোবাসাপূর্ণ এবং সমগ্র মানবকুলকে সৃষ্টির কর্তৃত্ব থেকে মহান একক আল্লাহর কর্তৃত্বের ছায়াতলে নিয়ে যেতে এবং পার্থিব সঙ্কীর্ণতা থেকে সুপরিব্যাপ্তির দিকে ও বিভিন্ন ধর্মের অন্যায়-অবিচার থেকে ইসলামের ন্যায়নিষ্ঠা ও নায্যতার প্রতি পথ দেখানোর ওপর ভিত্তিশীল একটি মহিমান্বিত সভ্যতা-সংস্কৃতি।
পৃথিবীর যে ধর্মকেই সভ্যতা-সংস্কৃতি থেকে আলাদা করে ফেলা হয়, সে ধর্ম অতিদ্রুত অবক্ষয় ও বিলুপ্তির কণ্টকাকীর্ণ পথে ধাবিত হয়। যে ধর্ম তার অনুসারীদের এ দুর্বল ও স্পর্শকাতর দিকটির ব্যাপারে সন্তুষ্ট করতে পারে, তাদেরকে আকিদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও তুষ্ট রাখতে পারে। ফলে তাদের সমাজ-সভ্যতার ফুলেল আঙিনায় অন্য কোনো সভ্যতা-সংস্কৃতি যেকোনো প্রকারে হোক, প্রবেশের পথ তৈরি করতে পারে না। আবার অন্য কোনো পরিবেশ-প্রকৃতিতে সৃষ্ট অথবা অন্য কোনো ধর্ম থেকে আবিষ্কৃত কিংবা কালের বিবর্তনে আবির্ভূত বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের প্রচলিত ‘সভ্যতা ও সংস্কৃতি’ও তাদের সভ্যতা-সংস্কৃতির আঁতুড়ঘরে হানা দিতে পারে না।
যে ধর্ম থেকে সভ্যতা-সংস্কৃতিকে পৃথক করে ফেলা হয়, কালের চক্রবালে ও সময়ের আবর্তনে সে ধর্মের অনুসারীরা তাদের ধর্মীয় রথী-মহারথী ও বড় বড় ব্যক্তিত্বদের হারিয়ে ফেলার সাথে সাথে যে ধর্মবিশ্বাস তাদের মন-মস্তিষ্কে প্রভাব বিস্তার করে আছে, সে ধর্মবিশ্বাসকেও ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে। ফলে তারা তাদের পূর্বসূরিদের বাস্তব প্রতিচ্ছবি হওয়া দূরে থাক, তারা যে সভ্যতার লালনভূমিতে বেড়ে উঠেছে এবং যে সভ্যতা-সংস্কৃতির রঙ-ঢঙ ও রীতি-ধারায় তাদের জীবন সাজিয়েছে, তা থেকে যোজন যোজন দূরত্বে সরতে শুরু করে।
এখনকার সময়ে ওপরে উল্লেখিত বিষয়টিকেই আমরা সবচেয়ে ভয় করি। পশ্চিমা সভ্যতা-সংস্কৃতির আগ্রাসন ও পাশ্চাত্য জীবনধারার সয়লাবের এ যুগে উপরিউক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি আমাদের ভীষণ ভাবনা ও চিন্তায় ফেলে দেয়। আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করুন।
অনুবাদ : মুহাম্মদ মিনহাজউদ্দিন

সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৭

নবরব শিল্পীগোষ্ঠীর এক বছর পূর্তি ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইসলামিক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে



শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক সংগঠন নবরব শিল্পীগোষ্ঠী'র এক বছর পূর্তি ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইসলামিক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল ৩০ই মার্চ বাদে এশা লালখান বাজার মাদ্রাসা ময়দানে নন্দিত উপস্থাপক হাসান বিন খুরশিদ ও কাজী হামদুল্লাহ্ এর সঞ্চালনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মাওলানা উবাইদুর রহমান খান নদভী, বিশেষ অতিথি হিসবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা গোলাম রব্বানী ও আব্দুর রহমান চৌধুরী, প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা পেশ করেন তারুণ্যের অহংকার, বিশিষ্ট কলামিস্ট মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ের লালখান বাজার মাদ্রাসার ঘটনা উল্লেখ বলেন,
কওমী মাদ্রাসায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসী ও ছাত্র খুন হয়না, সুতরাং যখন তখন তল্লাশীর নামে এখানে এসে ছাত্র-শিক্ষকদের হয়রানি করার কারো অধিকার নেই।
প্রধান বক্তা তার আলোচনায় বলেন, এখনকার তরুণদের সামনে এগিয়ে নিতে তাদেরকে ইসলামি সাহিত্য-সংস্কৃতির প্লাটফর্ম তৈরী করে
দিতে হবে, তবেই তরুণরা এগিয়ে যেতে পারবে।
নবরবের এই কনসার্টের প্রসংসা করে তিনি বলেন, আপনাদের এই আয়োজন খুবই চমৎকার এবং প্রসংশনীয়, আরো ব্যাপক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরো ঝাকঝমকপূর্ণ আয়োজন আমাদেরকে উপহার দিবেন এই কামনা করি।
আলোচনা সভার পূর্বে বাদ মাগরিব থেকে ইসলামিক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।
কনসার্ট সংগীত পরিবেশন করেন এইচ এম খলিলুল রহমান, শোয়াইব বিন ফজলুল করিম, এম এইচ আতিকুল্লাহ্, আবিদ হোসাইন, ইমরান হোসাইন, আলী হায়দার, সাজ্জাদ হোসাইন, ইব্রাহীম, আবু নাছের মাহফুজ, মিনহাজুল ইসলাম, আয়মন নূর, রুম্মান নূরসহ নবরবের শিল্পীরা।
অতিথি শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কন্ঠশিল্পী আল-আমিন সাক্বী ও বাংলার মাটি সাংস্কৃতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জিয়াউদ্দীন আল আজাদ।
আলোচনা সভার শেষে সভাপতির মুনাজাতের মাধ্যমে এই মনোমুগ্ধকর আয়োজন সমাপ্ত হয়।

"বাঁশখালী হিলফুল ফুযুল সংগঠন" এর উদ্যোগে ২দিন ব্যাপী ১১তম ইসলামী মহাসম্মেলন

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাড়াজাগানো ধর্মীয়, সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "বাঁশখালী হিলফুল ফুযুল সংগঠন" এর উদ্যোগে ২দিন ব্যাপী ১১তম ইসলামী ম...