বৃহস্পতিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭

অনতিবিলম্বে মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা বন্ধ করুন: নবরব শিল্পীগোষ্ঠী


মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিশু-কিশোর সাংষ্কৃতিক সংগঠন নবরব শিল্পীগোষ্ঠী।আজ সকাল ১০ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
মানববন্ধন কর্মসূচি পালনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও নগর সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুর রহমান চৌধুরী বলেন, শরণার্থী রোহিঙ্গা সম্প্রদায়কে আশ্রয় দেয়ার জন্য সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে মায়ানমারের সঙ্গে সকল কূটনীতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে আন্তর্জাতিকভাবে তাদের প্রতি চাপ প্রয়োগ করা আহবান জানান। অনুরূপভাবে সকল তাওহিদী জনতাকে ঐক্যবদ্ধভাবে মগের মুল্লুক খ্যাত মায়ানমার তথা বার্মার বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলে তাদের যাবতীয় পণ্য বর্জনের অনুরোধ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক 
আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন,
মায়ানমারের আরাকান রাজ্যে প্রায় ১২শত বছর ধরে বসবাসকারী মুসলমানদেরকে মায়ানমার সরকার পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উগ্রবৌদ্ধ নরপশুদের দ্বারা মুসলিম নর-নারী ও শিশুদেরকে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞসহ তাদের ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে। নারীদেরকে ধর্ষণ শেষে হত্যা করা হচ্ছে, তাদের গণহত্যা থেকে বৃদ্ধ ও দুধের শিশু পর্যন্ত রক্ষা পাচ্ছেনা। নাফ নদীতে মুসলিম ভাই-বোন ও শিশুদের লাশের রক্তের স্রোত বইছে। পাশাপাশি বার্মার সেনাবাহিনী কয়েকবার বাংলাদেশের আকাশ সীমালঙ্গন করেছে, যা গ্রহণযোগ্য হতে পারেনা।
এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে নবরবের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক শোয়াইব বিন ফজলুল করিম বলেন, মায়ানমারে মুসলিম গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধে জাতিসংঘ, ওআইসিসহ সকল আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি জোড় দাবি জানান।
মুনাজাতের মাধ্যমে মানববন্ধন কর্মসূচী সমাপ্ত করার পূর্বে সভাপতির বক্তব্যে প্রধান পরিচালক এইচ এম খলিলুর রহমান বলেন, যেসকল মুসলিম দেশ রোহিঙ্গা মুসলিমদের নিরাপত্তা ও সহায়তা দিয়ে এগিয়ে এসেছে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। 
উক্ত মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন, এইচ এম আতিকুল্লাহ, আবিদ হোসাইন, ইমরান হোসাইন, সাজ্জাদ হোসাইন, আলমগীর, খালেদ, মিনহাজ, ফাইয়াজ, আব্দুর রহমান, জুলফিকার, ইব্রাহীম প্রমুখ।

শনিবার, ২২ জুলাই, ২০১৭

কার্যনির্বাহী পরিষদ ২০১৭-১৮ সেশন

শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক সংগঠন নবরব শিল্পীগোষ্ঠী 'র নতুন কমিটি গঠন সম্পন্ন। এইচ এম খলিলুর রহমান প্রধান পরিচালক ও শোয়াইব বিন ফজললু করিম নির্বাহী পরিচালক নির্বাচিত।

অপসংস্কৃতির প্রতিরোধে সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত নবরব শিল্পীগোষ্ঠীর আগামী সেশনের (২০১৭-১৮) কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। আজ চট্টগ্রামের খুলশীস্থ সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে সদস্যদের গোপন ব্যালটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন করা হয়। এতে এইচ এম খলিলুর রহমান প্রধান পরিচালক ও শোয়াইব বিন ফজলুল করিম নির্বাহী পরিচালক নির্বাচিত হন।


এই পরিষদের অন্যান্য দায়িত্বশীল যারা নির্বাচিত হয়েছেন, যথাক্রমে এইচ. এম. আতিক উল্লাহ শিশু-কিশোর পরিচালক, আবিদ বিন আব্দুস সালাম সংগীত পরিচালক, ইব্রাহীম খলিল ক্বিরাত পরিচালক, আলমগীর হোসাইন অর্থ পরিচালক, ইমরান হোসাইন মিডিয়া পরিচালক, আবু নাসের মাহফুজ অফিস পরিচালক, আলী হায়দার থিয়েটার পরিচালক।

শুক্রবার, ২৬ মে, ২০১৭

তোহফায়ে রমজানুল মুবারক

সেহেরী ও ইফতারের সময়সূচী ১৪৩৮ হি
(রহমতের ১০ দিন)
(চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার জন্য)

রবিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১৭

নতুন ৬ ভাষায় অনূদিত হলো পবিত্র কুরআন শরীফ

পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে মুসলিম উম্মাহ পবিত্র হজ, ওমরা পালনে মসজিদুল হারামাইন ওয়াশ শরিফাইন তথা পবিত্র বাইতুল্লাহ এবং মদিনা মুনাওয়ারা জিয়ারতে যায়। বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর কথা চিন্তা করেই সৌদি কর্তৃপক্ষ পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় পবিত্র কুরআনুল কারিম অনুবাদ করেছেন। এ বছর ৬ ভাষায় অনুবাদ করা হলো পবিত্র কুরআনুল কারিম।
এর আগের ৫৫টি ভাষার পবিত্র কুরআনুল কারিম অনুবাদ করা হয়। এ বছর নতুন যোগ হলো আরও ৬ ভাষায় অনূদিত কুরআন।
এবার যে সব ভাষায় কুরআনের অনুবাদ হয়েছে; তা হলো-
১. পুশতু (আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও ইরানের প্রচলিত ভাষা);
২. তাজিক (তাজিকিস্তানের মূল ভাষা);
৩.ফুলানি (পশ্চিম আফ্রিকা ও মধ্য আফ্রিকার প্রায় ২০ দেশের প্রচলিত ভাষা);
৪. দ্যারি (আফগানিস্তানের ভাষা);
৫. ডাগবানি (ঘানার ভাষা) এবং
৬. নেপালি ভাষায় অনূদিত পবিত্র কুরআনের কপি মক্কা-মদিনার মসজিদের কুরআন রাখার তাকগুলোতে রাখা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নানান ভাষার মানুষ প্রতিদিনই সৌদি আরবের মসজিদুল হারাম ও মসজিদে নববি জিয়ারতে আসেন। আগত মুসলিমরা যেন হজ-ওমরা ও জিয়ারতের সময় অর্থসহ কুরআন অধ্যয়ন ও তাফসির পড়তে পারে, সে জন্যই এ ব্যবস্থা।
বিভিন্ন ভাষায় অনুদিত কুরআন সম্পর্কে মসজিদে নববির তত্বাবধায়ক কমিটির প্রধান শেখ আবদুল্লাহ বিন সালিম আওফি বলেন, ‘মুসলিম জাহানের প্রধান দুই মসজিদ তথা মসজিদে নববি ও মসজিদুল হারামে আগত হজ-ওমরা ও জিয়ারতকারীদের সুবিধার্থেই পৃথিবীর প্রায় সব ভাষায় কুরআনের অনুবাদ করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সূত্র : ইন্টারনেট

বৃহস্পতিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০১৭

সভ্যতা-সংস্কৃতি ধর্ম থেকে আলাদা নয়


সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ:

আল্লাহ তায়ালা বলেন- ‘আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের ধর্মকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছি ও তোমাদের ওপর আমার দান-অনুকম্পা পূর্ণাঙ্গ করে দিয়েছি এবং তোমাদের জন্য ইসলামকে ধর্ম হিসেবে সন্তুষ্ট হয়েছি।’ (সূরা মায়েদা : ৩)।
কোনো ধর্মকে যখন সভ্যতা-সংস্কৃতি থেকে আলাদা করে ফেলা হয়, তখন সে ধর্ম সভ্যতা-সংস্কৃতি বিচ্ছিন্ন ও সামাজিক যোগসূত্রবিহীন ধর্মে রূপান্তরিত হয়। বরং বলা যায়, এমন ধর্মে পরিণত হয়, যে ধর্মে জীবনের প্রাণোচ্ছলতা ও সজীবতার উচ্ছ্বাস নেই।
চিরন্তন ও শাশ্বত ধর্ম হলো, যে ধর্ম প্রভূত তাৎপর্য-মাহাত্ম্য, চারিত্রিক সুষমা ও ব্যবহারিক মাধূর্যতা, নান্দনিক আচার-আচরণ এবং অনুপম সভ্যতা-সংস্কৃতি ও সুস্থ রাজনীতির সুবিস্তীর্ণ দিগন্তে সদা উচ্চকিত। সত্য ও চিরস্থায়ী এবং শাশ্বত ধর্ম মানুষকে সঠিক আকিদা ও বিশ্বাসের ছাঁচে ঢেলে সাজিয়ে-গুছিয়ে অপূর্ব-সুন্দর একটি রূপ বা অবয়ব দেয়।
সত্যের আলো নিয়ে আত্মপ্রকাশের পর ইসলাম মানবতাকে পূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ, আলোধারায় প্লাবিত ও অপার্থিব জ্যোতিস্নাত ও প্রজ্ঞাসমৃদ্ধ, ন্যায়নিষ্ঠাপূর্ণ সতত একটি সভ্যতা উপহার দিয়েছে। যে সভ্যতা মহাপরাক্রমশালী একক আল্লাহর ওপর আকিদা-বিশ্বাস স্থাপন, তাঁর স্মরণ-আলোচনা, তাঁর অলৌকিক শক্তির প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং আখেরাতই চির সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির আধার- এ বিশ্বাস লালন করার ওপর প্রতিষ্ঠিত।
অনুরূপভাবে ইসলাম সামাজিক ন্যায়নিষ্ঠা, সাম্য, মানুষের প্রতি অকুণ্ঠ দয়ার্দ্রতা ও সহমর্মিতা, সেই সাথে যৌথভাবে একই সময়ে অধিকার ও আবশ্যকীয় কর্তব্য পালন এবং দান-দক্ষিণা ও বদান্যতায় সচেষ্ট, পারস্পরিক উপহারের আদান-প্রদান, কারো থেকে উপকার গ্রহণ ও অপরকে উপকৃতকরণ এবং যেকোনো সময় ও যেকোনো অবস্থায় মানুষকে সৃষ্টির সেরা এবং অত্যন্ত মর্যাদাশীল হিসেবে মান্যকরণের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি মানবিক শোভামণ্ডিত সভ্যতা উপহার দিয়েছে।
সত্যের আকিদা-বিশ্বাস ও আল্লাহ-প্রদত্ত শিক্ষাদীক্ষা, কুরআনের বিধি-নিষেধ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উজ্জ্বল জীবনালেখ্য এবং সাহাবাদের দ্যুতিময় জীবন-অধ্যায়ের ওপর ভিত্তি করেই ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে। পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি হয়ে উঠেছে মানবেতিহাসের সবচেয়ে সুন্দর-বাঙময় এবং সর্বোৎকৃষ্ট ও সর্বোত্তম সভ্যতা-সংস্কৃতিতে।
হেজাজের ভূমিতে ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতির সর্বপ্রথম বিকাশ ঘটে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শহর ও হিজরতের স্থান মদিনা মুনাওয়ারায়। তারপর ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি বিকাশের অভিযাত্রা ক্রমান্বয়ে মদিনার সীমানা পেরিয়ে পৃথিবীর অন্যান্য নগর-প্রান্তরে ও দিক-দিগন্তে চলতে থাকে। পৃথিবীর যে দেশেই ইসলামি সভ্যতা ও কৃষ্টির আগমন ঘটেছে, সে দেশের জনগণ ইচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতিকে গ্রহণ ও আপন করে নিয়েছে। দিগি¦জয়ী মুসলিম বীর-শার্দুলেরা যে অঞ্চল ও সমাজ জয় করেছেন, সে অঞ্চল ও সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতির পবিত্র ও নির্মল বায়ু সঞ্চারিত হয়েছে।
স্মর্তব্য, যে দেশ বা জাতিকে তরবারির জোরে আনুগত্যে আনা হয়, সে জাতি ও দেশের জনগণের চোখে বিজয়ীরা চিরকাল অপরাধী ও ঘৃণ্য হয়ে থাকে। এটি পৃথিবীর ইতিহাসের সর্বজনস্বীকৃত একটি স্পষ্ট বিষয়। কিন্তু ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি যে দেশেই আগমন করেছে, সে দেশের জনগণ ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতিকে চরম আগ্রহ ও পরম ভালোবাসা দিয়ে এবং প্রসন্নচিত্তে আপন ও প্রিয় করে নিয়েছে। কারণ, ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি হলো মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ ও বাস্তবতার সাথে অনুপম সামাঞ্জস্যপূর্ণ একটি চমৎকার ঐশী ব্যবস্থাপনা।
তদ্রƒপ ইসলামি সভ্যতা-সংস্কৃতি হলো, পারস্পরিক সহযোগিতা-সহমর্মিতা ও ¯েœহ-ভালোবাসাপূর্ণ এবং সমগ্র মানবকুলকে সৃষ্টির কর্তৃত্ব থেকে মহান একক আল্লাহর কর্তৃত্বের ছায়াতলে নিয়ে যেতে এবং পার্থিব সঙ্কীর্ণতা থেকে সুপরিব্যাপ্তির দিকে ও বিভিন্ন ধর্মের অন্যায়-অবিচার থেকে ইসলামের ন্যায়নিষ্ঠা ও নায্যতার প্রতি পথ দেখানোর ওপর ভিত্তিশীল একটি মহিমান্বিত সভ্যতা-সংস্কৃতি।
পৃথিবীর যে ধর্মকেই সভ্যতা-সংস্কৃতি থেকে আলাদা করে ফেলা হয়, সে ধর্ম অতিদ্রুত অবক্ষয় ও বিলুপ্তির কণ্টকাকীর্ণ পথে ধাবিত হয়। যে ধর্ম তার অনুসারীদের এ দুর্বল ও স্পর্শকাতর দিকটির ব্যাপারে সন্তুষ্ট করতে পারে, তাদেরকে আকিদা-বিশ্বাসের ক্ষেত্রেও তুষ্ট রাখতে পারে। ফলে তাদের সমাজ-সভ্যতার ফুলেল আঙিনায় অন্য কোনো সভ্যতা-সংস্কৃতি যেকোনো প্রকারে হোক, প্রবেশের পথ তৈরি করতে পারে না। আবার অন্য কোনো পরিবেশ-প্রকৃতিতে সৃষ্ট অথবা অন্য কোনো ধর্ম থেকে আবিষ্কৃত কিংবা কালের বিবর্তনে আবির্ভূত বা নির্দিষ্ট কোনো অঞ্চলের প্রচলিত ‘সভ্যতা ও সংস্কৃতি’ও তাদের সভ্যতা-সংস্কৃতির আঁতুড়ঘরে হানা দিতে পারে না।
যে ধর্ম থেকে সভ্যতা-সংস্কৃতিকে পৃথক করে ফেলা হয়, কালের চক্রবালে ও সময়ের আবর্তনে সে ধর্মের অনুসারীরা তাদের ধর্মীয় রথী-মহারথী ও বড় বড় ব্যক্তিত্বদের হারিয়ে ফেলার সাথে সাথে যে ধর্মবিশ্বাস তাদের মন-মস্তিষ্কে প্রভাব বিস্তার করে আছে, সে ধর্মবিশ্বাসকেও ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করে। ফলে তারা তাদের পূর্বসূরিদের বাস্তব প্রতিচ্ছবি হওয়া দূরে থাক, তারা যে সভ্যতার লালনভূমিতে বেড়ে উঠেছে এবং যে সভ্যতা-সংস্কৃতির রঙ-ঢঙ ও রীতি-ধারায় তাদের জীবন সাজিয়েছে, তা থেকে যোজন যোজন দূরত্বে সরতে শুরু করে।
এখনকার সময়ে ওপরে উল্লেখিত বিষয়টিকেই আমরা সবচেয়ে ভয় করি। পশ্চিমা সভ্যতা-সংস্কৃতির আগ্রাসন ও পাশ্চাত্য জীবনধারার সয়লাবের এ যুগে উপরিউক্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারটি আমাদের ভীষণ ভাবনা ও চিন্তায় ফেলে দেয়। আল্লাহ সবাইকে রক্ষা করুন।
অনুবাদ : মুহাম্মদ মিনহাজউদ্দিন

সোমবার, ৩ এপ্রিল, ২০১৭

নবরব শিল্পীগোষ্ঠীর এক বছর পূর্তি ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইসলামিক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে



শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক সংগঠন নবরব শিল্পীগোষ্ঠী'র এক বছর পূর্তি ও স্বাধীনতা দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ইসলামিক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল ৩০ই মার্চ বাদে এশা লালখান বাজার মাদ্রাসা ময়দানে নন্দিত উপস্থাপক হাসান বিন খুরশিদ ও কাজী হামদুল্লাহ্ এর সঞ্চালনায় হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর নায়েবে আমীর আল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন কবি মাহমুদুল হাসান নিজামী, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক ইনকিলাবের সহকারী সম্পাদক মাওলানা উবাইদুর রহমান খান নদভী, বিশেষ অতিথি হিসবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা গোলাম রব্বানী ও আব্দুর রহমান চৌধুরী, প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা পেশ করেন তারুণ্যের অহংকার, বিশিষ্ট কলামিস্ট মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ের লালখান বাজার মাদ্রাসার ঘটনা উল্লেখ বলেন,
কওমী মাদ্রাসায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের মত জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসী ও ছাত্র খুন হয়না, সুতরাং যখন তখন তল্লাশীর নামে এখানে এসে ছাত্র-শিক্ষকদের হয়রানি করার কারো অধিকার নেই।
প্রধান বক্তা তার আলোচনায় বলেন, এখনকার তরুণদের সামনে এগিয়ে নিতে তাদেরকে ইসলামি সাহিত্য-সংস্কৃতির প্লাটফর্ম তৈরী করে
দিতে হবে, তবেই তরুণরা এগিয়ে যেতে পারবে।
নবরবের এই কনসার্টের প্রসংসা করে তিনি বলেন, আপনাদের এই আয়োজন খুবই চমৎকার এবং প্রসংশনীয়, আরো ব্যাপক প্রশিক্ষনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আরো ঝাকঝমকপূর্ণ আয়োজন আমাদেরকে উপহার দিবেন এই কামনা করি।
আলোচনা সভার পূর্বে বাদ মাগরিব থেকে ইসলামিক কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়।
কনসার্ট সংগীত পরিবেশন করেন এইচ এম খলিলুল রহমান, শোয়াইব বিন ফজলুল করিম, এম এইচ আতিকুল্লাহ্, আবিদ হোসাইন, ইমরান হোসাইন, আলী হায়দার, সাজ্জাদ হোসাইন, ইব্রাহীম, আবু নাছের মাহফুজ, মিনহাজুল ইসলাম, আয়মন নূর, রুম্মান নূরসহ নবরবের শিল্পীরা।
অতিথি শিল্পী হিসেবে সংগীত পরিবেশন করেন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কন্ঠশিল্পী আল-আমিন সাক্বী ও বাংলার মাটি সাংস্কৃতিক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জিয়াউদ্দীন আল আজাদ।
আলোচনা সভার শেষে সভাপতির মুনাজাতের মাধ্যমে এই মনোমুগ্ধকর আয়োজন সমাপ্ত হয়।

বুধবার, ২২ মার্চ, ২০১৭

নবরব শিল্পীগোষ্ঠীর ১ম বর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আলোচন সভা ও ইসলামিক কনসার্ট

নবরব শিল্পীগোষ্ঠীর ১ম বর্ষপূর্তি ও মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে
আলোচন সভা ও ইসলামিক কনসার্ট

♣ আলোচনা সভা:
* সভাপতি :
আল্লামা মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী
* প্রধান অতিথি :
মাওলানা উবাইদুর রহমান খাঁন নদভী
* প্রধান আলোচক :
মুফতি হারুন ইজহার চৌধুরী

♣ আমন্ত্রিত শিল্পী বৃন্দ
*আল আমিন সাক্বী
*জিয়া উদ্দীন আল আজাদ
*মিনহাজ উদ্দীন সাইফী

♣ যাদের সুরে মুগ্ধ হবেন।
*এইচ এম খলিলুর রহমান
*শোয়াইব বিন ফজলুল করিম
*এইচ এম আতিক উল্লাহ
*আবিদ হোসাইন

♣ কিশোর শিল্পী :
*আলী হায়দার
*এইচ এম ইবরাহীম খলিল
*সাজ্জাদ হোসাইন
*মুহাম্মদ আলমগীর
*আবু নাসের মাহফুজ
*মিনহাজুল ইসলাম
*জুলফিকার আলী
*মুহাম্মদ নুরুন্নবী

♣ শিশু শিল্পী:
*ওসমান বিন ইয়াহইয়া
*সাজ্জাদ খাঁন
*মুহাম্মদ মাহীম
*আয়মন নূর
*রুম্মান নূর

♣ কবিতা আবৃত্তি:
ইমরান হোসাইন

♣ উপস্থাপনায়:
হাসান বিন খুরশিদ

উক্ত অনুষ্ঠানে আপনারা সকলে আমন্ত্রিত

শুভেচ্ছান্তে:
নবরব শিল্পগোষ্ঠী

সোমবার, ২০ মার্চ, ২০১৭

শুক্রবার, ১৭ মার্চ, ২০১৭

চিত্তবিনোদন ও ইসলামী সংস্কৃতি

ইসলামী আদর্শানুসারী জীবন একটি বিশেষ পদ্ধতিতে চালিত হয়। তাতে যেমন বাড়াবাড়ি ও সীমালংঘনের অবকাশ নেই, তেমনি নেই সংকোচন ও মাত্রা হ্রাসকরণের সুযোগ। শরী’আতের দৃষ্টিতে যা বৈধ, তাকে অবৈধ কিংবা কোন অবৈধকে বৈধ করার ক্ষমতা বা অধিকার কাউকেই দেয়া হয়নি। ইসলামী সংস্কৃতিময় জীবন ভারসাম্যপূর্ণ। কোন দিকের বাড়াবাড়ি বা সীমালংঘন দ্বারা সে ভারসাম্য বিনষ্ট করা সম্ভব নয়।
ইসলামী সংস্কৃতির দৃষ্টিতে উদ্দেশ্যহীন জীবন মানুষের গ্রহণযোগ্য নয়। বরং সুনির্দিষ্ট আইন-বিধি ও ব্যবস্থাধীন লক্ষ্যানুগ জীবনই ইসলামের কাম্য। যে জীবনের লক্ষ্য বিশ্বস্রষ্টা মহান আল্লাহর সন্তোষ লাভ, ইসলামের দৃষ্টিতে তা-ই সফল জীবন। সে জীবনে খোদার নাফরমানী বা সীমালংঘনের একবিন্দু স্থান নেই। বস্তুত ইসলামী সংস্কৃতিময় জীবন স্থবির, নিষ্ক্রিয় বা অথর্ব নয়। প্রকৃতপক্ষে এই জীবনই সক্রিয়, গতিশীল ও কর্ম-কোলাহলে মুখরিত। এ জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই ইবাদত-বন্দেগীতে অতিবাহিত হয়। এরূপ জীবন যাপন যে বিরাট সৌভাগ্যের ব্যাপার তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ জীবন বৈরাগ্যবাদী নয়; কেননা দুনিয়াত্যাগী জীবন কোন মাপকাঠিতেই মানবীয় নয়; দুনিয়ার দ্রব্য-সামগ্রী ও উপাদান-উপকরণ যথাযথভাবে ভোগ-ব্যবহার এবং আল্লাহর উদ্দেশ্যে সব কিছু কুরবানী করাই ইসলামের লক্ষ্য। সাংস্কৃতিক জীবনের স্বল্প ও সীমিত মুহূর্তগুলোকে অর্থহীন আরাম-আয়েস বা প্রবৃত্তির দাসত্বে অতিবাহিত করা জীবনের চরম অবমাননা এবং এটাই হচ্ছে জীবনের চরম ব্যর্থতার নামান্তর মাত্র। ইসলামে হালাল খাদ্য গ্রহণে, হালাল পানীয় পান করায় এবং হালাল পোশাক-পরিচ্ছদ ব্যবহারে কোন বাধা-নিষেধ আরোপিত হয়নি। এখানে নিষিদ্ধ হল মাত্রাতিরিক্ততা, অপব্যয়-অপচয়, অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগ। কেননা এর ফলে মানব মনে অসুস্থ ভাবধারা ছাড়াও পরিবার ও সমাজ বিপর্যয় সৃষ্টি হওয়া অবধারিত। এক কথায়, ইসলাম মানুষের বৈষয়িক জীবনে নানাবিধ প্রয়োজন উত্তম পন্থায় ও যথার্থ ভারসাম্য সহকারে পরিপূরণে ইচ্ছুক। কিন্তু জীবনে একবিন্দু বিপর্যয় সূচিত হোক তা বরদাশত করতে ইসলাম প্রস্তুত নয়।
মানুষ ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিটি মুহূর্ত উজ্জীবিত থাকুক, ইসলাম এটাই দেখতে চায়। তার জীবনের একটা মুহূর্তও উদ্দেশ্যহীন কাজে অপচয় হোক, তা ইসলামের কাম্য নয় আদৌ। কিন্তু সেই সঙ্গে এও সত্য যে, নিরবচ্ছিন্ন কর্মব্যস্ততা মানুষের জীবনের সব রস নিঃশেষে শুষে নিয়ে সেখানে সৃষ্টি করে রুঢ়তা ও রুক্ষতা। তাই চিত্তবিনোদন প্রতিটি মানুষের জীবনে অন্তঃসলিলা ফল্গুধারার মতো অপরিহার্য। কাজের মাঝে চিত্তবিনোদনের সুযোগ-সুবিধা না থাকলে জীবনটাই একটা দুর্বহ বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে অতি স্বাভাবিকভাবেই। তখন জীবনের সব মাধুর্য, হাস্য-রস, আনন্দ-স্ফূর্তি তেলহীন প্রদীপের মতই নিঃশেষ হয়ে যায় অনিবার্য পরিণতিতে। তাছাড়া কর্মের গভীর চিন্তায় নিরন্তর ভারাক্রান্ত হয়ে থাকলে কর্মশক্তির অবক্ষয় অবশ্যম্ভাবী। তাই বাস্তব জীবনের দুর্বহ বোঝা সঠিকভাবে বহন করে চলার জন্যে মনকে সব সময় সতেজ, সক্রিয় ও উদ্যমশীল রাখা আবশ্যক। আর তার জন্যে আনন্দ স্ফূর্তি ও চিত্তবিনোদনের নানা উপায় ও মাধ্যম অবলম্বনের প্রয়োজনীয়তা সর্বজন স্বীকৃত। আনন্দ-স্ফূর্তি ও চিত্তবিনোদন ব্যবস্থার দরুন মানব মনে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি করা সম্ভবপর। এর ফলে জীবনের প্রতি জাগে অপরিসীম কৌতুহল, মমত্ববোধ এবং তদ্দরুন মানুষ স্বীয় দায়িত্ব পালনে বিশেষ উদ্যমশীল হয়ে উঠতে পারে কিংবা অন্তত অল্প সময়ের জন্যে হলেও জীবনের নানাবিধ দুঃখ চিন্তা ও মর্মবেদনা থেকে সে নিষ্কৃতি পেতে পারে, মনের দুঃসহ বেদনা অনেকখানি হালকা করতেও সক্ষম হয়। এতে সন্দেহ নেই যে, মানব জীবন নানা দুঃখ-বেদনা ও আনন্দের সমষ্টি মাত্র। ঘটনা-পরম্পরার ঘাত-প্রতিঘাত মানুষকে কখনো দেয় দুঃখ আর কখনো দেয় আনন্দ। এই হচ্ছে জীবনের বাস্তবতা। একারণে দুঃখ ও দুশ্চিন্তার দুর্বহ ভারটা যদি মানুষের মনের ওপর বেশিক্ষণ চেপে বসে থাকে, তাহলে তা মনস্বত্ত্ব নৈতিকতা ও স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে তার পক্ষে বিশেষ ক্ষতিকর হতে পারে। পক্ষান্তরে আনন্দের এক পশলা হালকা বারিপাত লোকদের মানস-প্রান্তরে রচনা করতে পারে ফুল ও ফল-ভরা গুল-বাগিচা। বস্তুত হাস্যোৎফুল্ল মনের পক্ষে অধিক কর্মক্ষম হয়ে ওঠাই স্বাভাবিক। আর তারই জন্যে মানুষের জীবনে চিত্তবিনোদনের সামগ্রী যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। অতএব চিত্তবিনোদনও সংস্কৃতিরই এক অপরিহার্য দিক।
ইসলাম মূলগতভাবে চিত্তবিনোদনের প্রয়োজনীয়তাকে অস্বীকার করে নি; বরং নির্দোষ হাস্যরস, আনন্দ-স্ফূর্তি ও কৌতুককে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে; কিন্তু এক্ষেত্রেও ভারসাম্যকে উপেক্ষা করতে ইসলাম রাজী হয়নি। মানুষ কেবল আনন্দ-স্ফূর্তিতে মশগুল হয়ে থাকবে এবং ভাল-মন্দ নির্বিশেষ সর্ব প্রকারের চিত্তবিনোদনে জীবনে মহামূল্য সময় অতিবাহিত করবে, ইসলাম তা মোটেই পসন্দ করেনি। কেননা তার ফলে মানুষ আল্লাহর যিক্র থেকে গাফিল হয়ে যেতে পারে। আর আল্লাহর যিক্র থেকে গাফিল হয়ে যাওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের পক্ষে নৈতিক ও মানবিক উভয় দিকের চরম বিপর্যয় ছাড়া আর কিছুই নয়। একটু গভীরভাবে চিন্তা করলেই বুঝা যাবে, চিত্তবিনোদনের ব্যাপারটা বহুলাংশেই আপেক্ষিক। কার চিত্ত কিসে বিনোদন করবে আর কিসে হবে দুঃখ-ভারাক্রান্ত সে ব্যঅপারে কোন স্থায়ী মানদণ্ড নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। আসল লক্ষ্য হল চিত্তের বিনোদন। এখানে আনুষ্ঠানিকতার গুরুত্ব আছে; কিন্তু তা মুখ্য নয়, গৌণ। চিত্তবিনোদনের গুরুত্ব অনস্বীকার্য; কিন্তু তার জন্যে ইদানিং যে সব অনুষ্ঠানের আশ্রয় গ্রহণ করা হচ্ছে সাধারণভাবে তা নিশ্চয়ই অপরিহার্য নয়। কেননা চিত্তের বিনোদনের জন্যে তা-ই নয় একমাত্র উপায়। এ ধরনের অনুষ্ঠান ছাড়াও চিত্তের বিনোদন সম্ভব। ইসলাম এ দৃষ্টিতেই চিত্তবিনোদনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে অনুষ্ঠান হিসেবে কেবল তা-ই সমর্থন করেছে যা নির্দোষ-যার পরিণাম ভাল ছাড়া মন্দ নয়, যাতে করে মানুষের নৈতিকতার পতন ঘটার পরিবর্তে উন্নতি সাধিত হয়, যার দ্বারা মনুষ্যত্বের সুমহান মর্যাদা রক্ষা পায়, যার ফলে মানুষ তার উন্নত মর্যাদা থেকে পশুর স্তরে নেমে যায় না। এ ধরণের যা কিছু অনুষ্ঠান ও উপকরণ হতে পারে, তা-ই ইসলামে সমর্থিত এবং মানুষের পক্ষেও তা বর্জন করা কর্তব্য। এই দৃষ্টিতে বর্তমানে চিত্তবিনোদন সামগ্রী বা মাধ্যম হিসেবে গৃহীত কতিপয় অনুষ্ঠান সম্পর্কে খানিকটা বিস্তারিত আলোচনা করা যাচ্ছে।
সিনেমা, টেলিভিশন ও নাট্যাভিনয়
বর্তমান কালে সিনেমা বা চলচ্চিত্রকে এক সস্তা চিত্তবিনোদন মাধ্যম রূপে ব্যাপকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। সিনেমার মূল উপকরণ হল ফিল্ম। ফিল্ম বিদ্যুতের ন্যায়ই এক প্রাকৃতির ও নৈসর্গিক শক্তি। কিন্তু এ নৈসর্গিক শক্তিকে বর্তমানে যে অন্যায় ও অশোভন পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা কোনক্রমেই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না। একটা শক্তিশালী প্রচার-মাধ্যম হিসেবে সিনেমা সম্পর্কে কিছু না বললেও ইদানিং সিনেমায় যা কিছু দেখানো হয় সে সম্পর্কে একথা পুরোপুরি প্রযোজ্য। ফিল্মকে বর্তমানে অশ্লীল, নির্লজ্জ ও নৈতিকতা-বিবর্জিত দৃশ্যাবলীর প্রদর্শনীর কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাতে যে কাহিনী বা গল্প চিত্রায়িত হয়, তা অবৈধ ভালবাসা ও প্রণয়াসক্তির বিচিত্র গতি-প্রকৃতি ও রোমান্টিক ঘটনা-পরম্পরার আবর্তনে উদ্বেলিত। তা দর্শকদের, বিশেষত তরুণ-তরুণীদের মন-মগজ ও চরিত্রের ওপর অত্যন্ত খারাপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। রূপালী পর্দায় আলো-ছায়ার বিচিত্র ও রহস্যময় খেলায় যা কিছু দেখানো হয়, হুবহু তারই প্রতিফলন ঘটে দর্শকদের চরিত্রে। যা থাকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে, তাকেই ধরতে ছুঁতে ও কল্পনাকে বাস্তবে রূপদান করার জন্যে পাগল-পারা হয়ে ওঠে দর্শকবৃন্দ। এটা যে একান্তই স্বাভাবিক তাতে কারোর এতটুকু সন্দেহ থাকতে পারেনা এবং কেউ এর বিপরীত মতও প্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা যায় না। [আধুনিক টিভি নাটক, টেলিফিল্ম ও ভিডিও ক্যাসেট সম্পর্কেও একথা সমানভাবে প্রযোজ্য। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার এসব অনুষ্ঠান বহুতর ক্ষেত্রে সিনেমার চেয়েও মারাত্মকভাবে দর্শক চিত্তের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করছে। বিশেষত স্যাটেলাইট চ্যানেলের বদৌলতে আকাশ-সংস্কৃতির ব্যাপক বিস্তৃতি এবং ইন্টারনেট প্রোগ্রামের দ্রুত সম্প্রসারণের কারণে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া এখন মানবীয় চরিত্র ও নৈতিকতার পক্ষে এক ভয়ংকর ঘাতকে পরিণত হয়েছে। -সম্পাদক]। এ ধরণের দৃশ্যাবলী প্রত্যক্ষ করায় দর্শকদের মধ্যে তাৎক্ষণিক যৌন উন্মাদনা ও দুর্দমনীয় আবেগ-উচ্ছ্বাস সৃষ্টি হওয়াও কিছুমাত্র অস্বাভাবিক নয়। এ ধরণের কাহিনীকে চিত্রায়িত করার জন্যে প্রথমেই নারী-পুরুষ তথা উদ্ভিন্ন-যৌবন যুবক-যুবতীদের অবাধ মেলামেশা, নগ্নতা-উচ্ছৃংখলতা, অমুহাররম নারী-পুরুষের মধ্যে অন্যায় ও অসত্য সম্পর্ক স্থাপন, নির্লজ্জ অঙ্গভঙ্গি এবং তার পরিণামে পাশবিক আচার-আচরণে অভ্যস্ত হওয়া অবধারিত। কেননা এসব উপাদান ছাড়া কোন ‘রোমান্টিক’ কাহিনীই চিত্রায়িত হতে পারেনা। শুধু তা-ই নয় এক্ষেত্রে নির্লজ্জতা ও পাশবিকতার মাত্রা ক্রমশ বৃদ্ধি করার দাবি তীব্র হতেও তীব্রতর হয়ে ওঠে। আর দাবি এ দাবি পূরণ নাহলে সিনেমার দর্শকদের সংখ্যাও কমে যায়। যে সিনেমায় এ দাবি পূরণ করার যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, তাকে যে কোন অজুহাতে উপেক্ষা করা হয়। তাছাড়া দর্শকদের যৌন পিপাসা নিবৃত্ত করার জন্যে সিনেমায় নায়ক-নায়িকার আবেগ উচ্ছ্বসিত আলিঙ্গন ও চুম্বন-এমনকি (বিশেষ করে পাশ্চাত্য দেশে) যৌন মিলনের বাস্তব দৃশ্যের অবতারণা করাও আবশ্যক হয়ে দেখা দেয়। কিন্তু এসব অশ্লীল, গর্হিত ক্রিয়া কর্ম ইসলাম আদৌ সমর্থন করেনা; শুধু তা-ই নয়, কোন সুস্থ বিবেক-বুদ্ধি ও রুচিশীল মানুষই তা বরদাশত করতে পারেনা। এগুলো যে মনুষ্যত্বের চরম লাঞ্ছনা ও অবমাননা, তা কি বলবার অপেক্ষা রাখে?
সিনেমা ও নাট্যাভিনয়ে অভিনেতা-অভিনেত্রীকে বারে বারে ও ঘনঘন নিজেদের ভূমিকা বদলাতে হয়। বহু রূপে রূপান্তরিত করতে হয় নিজ নিজ ব্যক্তিত্বকে- ব্যক্তি-চরিত্রকে আর তার ফলে তাদের চরিত্র নিজস্ব স্বকীয়তা ও বিশেষত্ব হারিয়ে ফেলে। অতঃপর কেউ আর নিজস্ব কোন চারিত্রিক রূপ আছে বলে দাবি করতে পারেনা। এর ফলে অভিনেতা-অভিনেত্রীদের চরিত্র পুরোপুরি বহুরূপী হয়ে দাঁড়ায়। স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা যখন প্রতিটি মানুষকে তার আয়ুষ্কালের প্রতিটি মুহূর্তের জন্যে দায়ী করেছেন এবং কোন মানুষকে তার ব্যক্তি-সত্তার স্বাতন্ত্র্যকে কুরবান করার নির্দেশ দেননি, তখন এ ধরণের কোন কাজ যে তাঁর নিকট পসন্দনীয় হতে পারে না, তা বলাই বাহুল্য। অনেক ক্ষেত্রে সৎ লোককে অসৎ লোকের ভূমিকায় ও অসৎ লোককে সৎ লোকের ভূমিকায় অভিনয় করতে হয় এবং নিজেকে অনুরূপ সাজসজ্জায় ভূষিত করে দর্শকদের সামনে আত্মপ্রকাশ করতে হয়। এর ফলে তাদের চরিত্রে এক ধরণের কৃত্রিম গুণ-বৈশিষ্ট্যের প্রতিফলন ঘটে অনিবার্যভাবে। এটা মানবতার পক্ষে খুবই মারাত্মক। কেননা এতে মহান স্রষ্টার স্বাভাবিক নিয়মের প্রতি চরম অবজ্ঞা ও উপহাস করা হয়। একারণে ফিল্মের বর্তমান অন্যায় ব্যবহার বন্ধ করা ছাড়া মানবতার মর্যাদা রক্ষার আর কোন উপায় নেই।
মূলত সিনেমা ও ফটোগ্রাফী গৃহীত হয় নিষ্প্রাণ প্লাষ্টিক ফিতার (Negative Film) ওপর। একে যদি ইতিবাচক শিক্ষা ও জ্ঞান বিস্তারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয় তাহলে মানব সমাজের প্রভূত কল্যাণ সাধিত হতে পারে। সেটা করা হলে চলচ্চিত্র এমন একটা শক্তি হয়ে উঠতে পারে, যার দ্বারা অল্প সময়ের মধ্যে কোটি কোটি নিরক্ষর মানুষকে শুধু অক্ষর জ্ঞানসম্পন্নই নয়, অশিক্ষিত ও অল্প শিক্ষিতদেরকেও উচ্চতর আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে সুসমৃদ্ধ করা কিছুমাত্র কঠিন নয়। বহু মানুষকে দুনিয়ার সাধারণ জ্ঞান (General Khowledge) এবং নিত্য-নব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার-উদ্ভাবনী সম্পর্কে পূর্ণ অবহিতি দিয়ে ধন্য করা যেতে পারে। [সিনেমা বা চলচ্চিত্রকে যে কত চমৎকারভাবে সৃজনশীল ও গঠনমূলক কাজে ব্যবহার করা যায়, ইসলামী বিপ্লবোত্তর ইরানী চলচ্চিত্রই তার প্রকৃষ্ট প্রমাণ। আল্লাহর দেয়া স্বভাব-নিয়মকে কিছুমাত্র বিকৃত না করে এবং ইসলামী শরী’আতের চৌহদ্দীর মধ্যে থেকেই ইসলামী ইরান তার চলচ্চিত্র শিল্পেও এক ইতিবাচক বিপ্লব ঘটিয়েছে, যা মানবতার কল্যাণে অসামান্য অবদান রাখছে।- সম্পাদক]। ইসলামী শরী’আতের দৃষ্টিতে এতে অন্যায় কিছু থাকেনা। এতেও হয়ত প্রাণীর ছবি পর্দায় ভেসে উঠবে; কিন্তু তা দর্পনে প্রতিফলিত প্রতিবিম্বের মতই ক্ষণস্থায়ী। আর দর্পনে প্রতিফলিত ছবি যে নিষিদ্ধ নয় তা সকলেরই জানা কথা। তা সেই ছবি নয়, যা শরী’আতে নিষিদ্ধ।
ছবি অঙ্কন ও প্রতিকৃতি নির্মাণ
প্রাণীর ছবি অঙ্কন বা প্রতিকৃতি (Salute) নির্মাণ ইসলামে নিষিদ্ধ। রাসূলের হাদীসে এ সম্পর্কে কঠিন নিষেধবাণী উচ্চারিত হয়েছে। নিছক চিত্তবিনোদনের খাতিরে এ ধরণের কাজ করা কিছুতেই উচিত হতে পারে না। অবশ্য নিষ্প্রাণ জিনিসের ছবি তোলা বা তার প্রতিমূর্তি নির্মাণ করা নিষিদ্ধ নয়। [অবশ্য আধুনিক কালের আলোক চিত্র ও ছবি অঙ্কনের মধ্যে একটা মৌল পার্থক্য বিদ্যমান। ছবি অঙ্কনটা কৃত্রিম ও কাল্পনিক; কিন্তু আলোকচিত্র হচ্ছে একটি বস্তুর হুবহু স্থিরচিত্র। একালের পাসপোর্ট ভিসা ছাড়াও বহুতরো নিরাপত্তামূলক কাজে আলোকচিত্র ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।- সম্পাদক]। তাতে দোষেরও কিছু নেই। এরূপ কাজে বরং ড্রয়িং ও প্রকৌশল বিদ্যার যথেষ্ট উৎকর্ষ সাধিত হতে পারে। ইসলামে প্রতিমূর্তি নির্মাণ- বর্তমানে যাকে বলা হয় ভাস্কর্য- শুরু থেকেই নিষিদ্ধ এবং অন্যায় বলে চিহ্নিত। নবী ও রাসূলগণ এরূপ কাজের বিরুদ্ধে জিহাদ করেছেন। মুসলিম জাতি প্রথম দিন থেকেই মূর্তিভাঙা জাতি নামে পরিচিত। কাজেই প্রতিমূর্তি নির্মাণ কোন মুসলমানের কাজ হতে পারেনা, আধুনিক শিল্পকলার দৃষ্টিতে তার যত বেশী মর্যাদাই স্বীকার করা হোক-না কেন। একটি মূর্তি-পূজক জাতির পক্ষেই এটা শোভা পায়। ইসলামে মূর্তি নির্মাণ ও মূর্তিপূজা নিষিদ্ধ এজন্যে যে, এটা শিরকের উৎস আর শিরক ইসলামের সম্পূর্ণ বিপরীত মতাদর্শ। যে সমাজে শিরক অনুষ্ঠিত হয়, সে সমাজের প্রতিটি ব্যক্তির মধ্যে সংক্রামক ব্যধির মতোই এই রোগ সংক্রমিত হয় এবং সকলকে মুশরিক বানিয়ে ছাড়ে। এই কারণ অল্প সময়ের তরে বা শিল্প-কলার খাতিরেও এই কাজকে বরদাশত করা যেতে পারে না। ইসলামী সমাজের আদর্শ পুরুষ হযরত ইবরাহীম (আ) তাঁর জাতির মূর্তি খামারের সব ক’টি মূর্তিই চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছিলেন। আর শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সা. মক্কা বিজয়ের পর কা’বা ঘরে অবস্থিত তিনশ’ ষাটটি মূর্তিকে বাইরে নিক্ষেপ করে ঘোষণা করেছিলেন- ‘‘সত্য এসেছে, মিথ্যা ও অসত্য নির্মূল ও বিলীন হয়ে গেছে।’’
তাই মূর্তি নির্মাণের কাজ তওহীদ বিশ্বাসীদের পক্ষে কোনরূপ গৌরবজনক হতে পারে না, কাল বিবর্তনে তার নাম যাই হোক-না কেন। প্রকৃতপক্ষে একাজ মানবতার ললাটে কলঙ্ক টিকামাত্র। আধুনিক Finearts (ললিতকলা) ও Sclupture (ভাস্কর্যবিদ্যা)- এ এইসব পঙ্কিল ভাবধারা পুরোমাত্রায় স্থান পেয়েছে। আসলে মূর্তি-পূজার প্রাচীনতম ভাবধারা আধুনিক যুগে ভাস্কর্য শিল্পের ছদ্মাবরণে শিরককেই সংস্থাপিত করতে চাচ্ছে। শিল্পকে এই শিরকী ভাবধারা থেকে মুক্ত ও পবিত্র করা ইসলামী সংস্কৃতিবানদের কর্তব্য।

আল্লাহর গুণাবলী শেষ হওয়ার নয়


                                       

পৃথিবীতে যত বৃক্ষ আছে
সবই যদি কলম হয়,
এবং সমুদ্রের সাথেও সাত সমুদ্র
যুক্ত হয়ে যদি কালি হয়,
তবুওও আল্লাহরর গুনাবলী
লিখে শেষ করা যাবে না।

আল কোরআন
সূরা লোকমান
আয়াত :২৭

*ব্যাকগ্রাউন্ড ছবি : ইমরান হোসাইন

"বাঁশখালী হিলফুল ফুযুল সংগঠন" এর উদ্যোগে ২দিন ব্যাপী ১১তম ইসলামী মহাসম্মেলন

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাড়াজাগানো ধর্মীয়, সামাজিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন "বাঁশখালী হিলফুল ফুযুল সংগঠন" এর উদ্যোগে ২দিন ব্যাপী ১১তম ইসলামী ম...